সমঝোতার মেয়াদ শেষ, ইরানকে কঠোর বার্তা ট্রাম্পের

18/08/2026 2:40 pmViews:
image-44900-1787022388

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সমঝোতার মেয়াদ আর বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে ‘আত্মসমর্পণের জন্য সাদা পতাকা ওড়ানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে করা কাঠামোগত সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আগ্রহ নেই। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত জুনে ওই সমঝোতা হয়েছিল।

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘না’।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ সোমবার শেষ হয়। এরপর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের কারণে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার আর কোনো কার্যকারিতা নেই।

তিনি আরও জানান, ইরানের ওপর হামলা হলে তা মোকাবিলায় দেশটির বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। জুনের সমঝোতার আওতায় বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ইরান চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তেহরান আলোচনা করতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি চায়, ইরান সে ধরনের চুক্তিতে রাজি নয় বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তিনি যে ধরনের চুক্তিকে প্রয়োজনীয় মনে করেন, তেহরান সেই ধরনের চুক্তি করবে না। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। তার ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না এবং তা থাকবেও না।

এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও নিজের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি প্রণালিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন।

এ বিষয়ে আবারও প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন এটি ‘দারুণ একটি ধারণা’। তার দাবি, নৌ অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তার দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে ইরান কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে প্রতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। তার ভাষ্য, প্রণালিটি খোলা রয়েছে এবং এর ফলে তেলের দাম কমছে ও আরও কমতে পারে।

তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে যুক্তরাষ্ট্র এখনকার চেয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ইরান বর্তমানে ‘বড় সমস্যার মধ্যে’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply