দাতা সংস্থা নাহারের অর্থায়নে ও ছওয়াবের উদ্যোগে বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত ২৮টি অসহায় পরিবার পেল নতুন ঘর

দাতা সংস্থা নাহারের অর্থায়নে ও ছওয়াবের উদ্যোগে বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত ২৮টি অসহায় পরিবার পেল নতুন ঘর
ঢাকা, ৪ নভেম্বর ২০২৬: চলতি বছরের জুলাই মাসে ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। বন্যায় অসংখ্য পরিবার বসতবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে এবং মানবেতর জীবনযাপন করেন। বন্যার পরপরই সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন সংস্থা ছওয়াব (SAWAB) ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জরুরি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত ও আশ্রয়হীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে সংস্থাটি।
এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় দাতা সংস্থা নাহারের (NAHAR) অর্থায়নে এবং ছওয়াবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাঁশখালী উপজেলায় ২৮টি অসহায় পরিবারের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। আজ ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্মিত ২৮টি ঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও উপকারভোগী পরিবারের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছওয়াবের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব এস. এম. রাসেদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, মহাপরিচালক (সচিব), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, ঢাকা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. রুহুল আমিন এবং বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মো. রবিউল হকসহ তাঁর টিম। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রকল্পের উপকারভোগী পরিবারসমূহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ছওয়াবের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্যবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ করেন।
ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ছওয়াব (SAWAB) ও ইসলামিক রিলিফ (Islamic Relief) কর্তৃক বাঁশখালী উপজেলায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপকারভোগীদের মাঝে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সভায় উপকারভোগীরা চলমান প্রকল্প কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা, প্রাপ্ত সুবিধা, তাঁদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন। অতিথিবৃন্দ তাঁদের মতামত ও অভিজ্ঞতা মনোযোগসহকারে শোনেন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের সমন্বিত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ ছওয়াবের এই মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও দাতাসংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা এই মহতী উদ্যোগে অর্থায়নের জন্য দাতা সংস্থা নাহারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ঘরপ্রাপ্ত উপকারভোগী পরিবারগুলো আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, বন্যার পরবর্তী প্রায় তিন থেকে চার মাস তাঁরা ঘরহীন অবস্থায় অত্যন্ত কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। নতুন ঘর পেয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হয়েছে এবং তাঁরা পুনরায় নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখছেন।
এ সময় উপকারভোগীরা তাঁদের জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে ছওয়াবের চেয়ারম্যানের কাছে অটোরিকশা, মুদি দোকান এবং গবাদিপশু প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি নিরাপদ সুপেয় পানির নিশ্চয়তায় এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্যও তাঁরা অনুরোধ জানান। ভবিষ্যতেও ছওয়াব যেন এ ধরনের মানবিক, পুনর্বাসনমূলক ও উন্নয়নধর্মী কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তাঁরা।
ছওয়াব বিশ্বাস করে, দুর্যোগ-পরবর্তী মানবিক সহায়তা কেবল জরুরি ত্রাণ বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপদ আবাসন, জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত পুনর্বাসন সম্ভব। দাতা সংস্থা নাহারের আন্তরিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই ২৮টি ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে ছওয়াব প্রত্যাশা করে। ছওয়াবের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব এস. এম. রাসেদুজ্জামান বলেন মানবতার সেবায়, মানুষের কল্যাণে ছওয়াবের পথচলা অব্যাহত থাকবে।
















