পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ভারতের

10/06/2024 12:08 pmViews: 1
mzamin
facebook sharing buttonviber sharing button
whatsapp sharing button

পাকিস্তানকে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ দল বলা হতো! বড় দলের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর অপেক্ষাকৃত ছোট দলের কাছে হেরে যেতে দেখা যেতো তাদের। তবে এখন মনে হয় তাদেরকে প্রেডিক্টেবল বলা যায়। ছোট হোক বা বড় দল- নিয়মিতই হারছে তারা। বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচে পাকিস্তানকে হারালো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। গতকাল নিউ ইয়র্কে আগে ব্যাট করে মাত্র ১১৯ রানে অলআউট হয় ভারত। জবাবে সাত উইকেটে ১১৩ রানে শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস।  ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ১৪ রানে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা জসপ্রিত বুমরাহ। অপর পেসার হারদিক পান্ডিয়া দুই ও আর্শদীপ সিং নেন এক উইকেট। অপর উইকেটটি নেন বাঁ-হাতি স্পিনার অক্ষর প্যাটেল। টানা দুই জয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে ভারত। দুই জয়ে দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা দুই হারে বিদায়ের অপেক্ষায় পাকিস্তান।

নাসাউ স্টেডিয়ামে আর্শদীপ সিংয়ের প্রথম ওভারে ৯ রান তোলেন বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। মোহাম্মদ সিরাজের ওভারে যোগ হয় ৬ রান। ওভারের প্রথম বলেই ডাউন দ্য গ্রাউন্ড ড্রাইভে মিড অন দিয়ে দৃষ্টিনন্দন চার হাঁকান বাবর। শুরুতেই সুযোগ এসেছিল ভারতের। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে ক্যাচ তুলে দেন রিজওয়ান। জসপ্রিত বুমরার বলে ফাইন লেগে রিজওয়ানের ক্যাচ ফেলে দেন শিবাম দুবে। তখন রিজওয়ানের সংগ্রহ ছিল ৭ রান। তবে অল্প ব্যবধানেই জুটি ভাঙে পাকিস্তানের। কারিগর সেই বুমরাহ। তার দ্বিতীয় ওভারে দারুণ এক ডেলিভারিতে স্লিপে বাবরের ক্যাচ অসাধারণ দক্ষতায় লুফে নেন সূর্যকুমার যাদব। ৪.৪ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬/১-এ। দ্বিতীয় উইকেটে উসমান খানকে নিয়ে ৩১ রানের জুটি গড়েন রিজওয়ান। অক্ষর প্যাটেলের ডেলিভারিতে ব্যক্তিগত ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন উসমান। উত্তেজনা বাড়ে ম্যাচে। তবে ম্যাচ তখনও নাগালেই ছিল বাবরদের। শেষ ৪৭ বলে ৪৭ রানের প্রয়োজন ছিল পাকিস্তানের। হাতে ছিল আট উইকেট। কিন্তু এরপর অবিশ্বাস্যভাবে ভেঙে পড়ে সবুজ জার্সিধারীরা। ৮ বলে ১৩ রান করে ফখর জামান আউট হলে চাপে পড়ে পাকিস্তান। হার্দিক পান্ডিয়ার শর্ট বল পুল করতে গেলে সময়ের হেরফেরে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল উঠে যায় শূন্যে। অনেকটা পেছনে দৌড়ে ক্যাচ গ্লাভসবন্দি করেন উইকেটরক্ষক ঋষভ পান্ত। ১৪.১তম ওভারে দলীয় ৮০ রানে রিজওয়ানকে বুমরাহ সরাসরি বোল্ড করে দিলে ম্যাচের উত্তেজনা ওঠে চরমে। বুমরাহর লেংথ ডেলিভারি ক্রস খেলতে গিয়ে মিস করেন রিজওয়ান। উপড়ে যায় স্টাম্প। ৪৪ বলে ৩১ রান করা রিজওয়ানের ইনিংসটাকে কোনোভাবেই টি-টোয়েন্টি সুলভ বলা যায় না। এর আর ঘুরে দাঁতে পারেনি বার অ্যান্ড কোং।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে শুরুটা খারাপ ছিল না ভারতের। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকান রোহিত শর্মা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইনিংসের প্রথম ওভারে ছক্কা খেলেন শাহিন আফ্রিদি।

৫০ মিনিট পর দেরিতে শুরু ম্যাচের বয়স ১ ওভার হতেই ফিরে আসে বৃষ্টি। বিনা উইকেটে ৮ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। ৮ রানই করেন ১টি ছক্কা মারা ভারত অধিনায়ক। বৃষ্টি শেষে আবার খেলা শুরু হলে চার হাঁকিয়ে নিজের খাতা খোলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ‘যম’ বিরাট কোহলি। কিন্তু পরে বলেই উইকেট খোয়ান ভারতীয় ওপেনার। কাভার ড্রাইভে দারুণ এক চার মারা কোহলি আউট হন একই শট খেলতে গিয়ে। পেসার নাসিম শাহর বলে কাভার পয়েন্টে উসমান খানের হাতে ক্যাচ দেন কোহলি। দলীয় ১২ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগের ৫ ম্যাচে কোহলির সংগ্রহ ছিল ৩০৮ রান। চারবার অপরাজিত থাকা বিরাটের গড় ৩০০! এদিন দ্রুতই কোহলিকে অনুসরণ করেন রোহিত। ১৩ রান করে আউট হন ভারত অধিনায়ক। শাহিন আফ্রিদির বলে ডিপ স্কয়ার লেগে হারিস রউফের হাতে ক্যাচ দেন রোহিত। ২.৪ ওভার শেষে ১৯/২ স্কোর নিয়ে চাপে পড়ে ভারত। তবে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন এনে চাপ সামলাতে চেষ্টা করে ভারতীয় থিঙ্ক ট্যাংক। এতে অনেকটা সফলও হয় তারা। তৃতীয় উইকেটে দ্রুত ৩৯ রানের জুটি গড়েন ঋষভ পান্ত ও অক্ষর প্যাটেল। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভার শেষ করেন তারা নির্বিঘেœ। স্কোর বোর্ডে ততক্ষণে জমা পড়ে ৫০ রান। তবে ৭.৪তম ওভারে অক্ষরকে সরাসরি বোল্ড করে দেন নাসিম শাহ। দলীয় ৫৮ রানে পড়ে ভারতের তৃতীয় উইকেট। ১৭ বলের ইনিংসে ২ চার ও এক ছক্কায় ২০ রান করেন অক্ষর। উইকেটের সবদিকে শট খেলায় দক্ষ ‘থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি ব্যাটার’ খ্যাত তারকা সূর্যকুমার যাদব সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ৭ রানে। পেসার হারিস রউফের ডেলিভারিতে স্কুপ খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে মোহাম্মদ আমিরের হাতে ক্যাচ দেন সূর্যকুমার। এর পর নাসিম শাহকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন  শিবম দুবে। ১৩.২তম ওভার শেষে ৯৫/৫ স্কোর নিয়ে চাপ বাড়ে ভারতীয় শিবিরে। পরের ওভারে মোহাম্মদ আমির জোড়া আঘাত হেনে লাগাম নিয়ে নেন নিজেদের হাতে। ১৫তম ওভারের শুরুর দুই বলে যথাক্রমে ঋষভ পান্ত ও রবীন্দ্র জাদেজাকে ফেরান আমির। পরে নিজের তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে উইকেট নেন হারিস রউফ। আর আর্শদীপ সিংয়ের রানআউটে ১১৯ রানে গুঁড়িয়ে যায় ভারতের ইনিংস। ২৪ রানে শেষ ছয় উইকেট হারায় ভারত। তখনও বাকি ছিল ৬ বল।

Leave a Reply